ফোন রুট কাকে বলে ? এর সুবিধা ও অসুবিধা কী কী ? - Ask Answers
Ask Answers এ আপনাকে স্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং সাইটের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
বঙ্গাব্দ৷

23 বার দেখা হয়েছে
17 মে "মোবাইল" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন সিনিয়র নিয়মিত সদস্য (780 পয়েন্ট)

1 উত্তর

1 টি পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
18 মে উত্তর প্রদান করেছেন অভিজ্ঞ সদস্য (2,321 পয়েন্ট)
সবচেয়ে সহজ ভাষায় বললে রুট হচ্ছে একটি এডমিনিস্ট্রেটর বা প্রশাসক যা একজন এন্ড্রয়েড ইউজার কে তার সিস্টেম টি পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী করে তোলে যাকে বলা হয় সুপার ইউজার।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে মোবাইলে মালিক ত আপনি তাহলে রুট ব্যতিত কেন আপনি আমার ফোনের অপারেটিংসিস্টেম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্ষমতা পাচ্ছেন না। আপনি ডিভাইসটি কিনেছেন তাই আপনার ফোনের মালিক আপনি নিজেই কিন্তু আপনি কিন্তু অপারেটিং সিস্টেমটি ইন্সটল করেননি, তাই না? ডিভাইস প্রস্তুতকারক ডিভাইসটি প্যাকেটজাত করার আগে তাদের কম্পিউটার থেকে লিনাক্স কার্নেলের উপর তৈরি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করে দিয়েছে। এখানে বলা বাহুল্য, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের মূল ভিত্তিটা এক হলেও একেক কোম্পানি একেকভাবে একে সাজাতে বা কাস্টোমাইজ করতে পারেন। এই জন্যই সিম্ফোনির একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ইউজার ইন্টারফেসের সঙ্গে স্যামসাং এর একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ইন্টারফেসের মধ্যে খুব কমই মিল পাওয়া যায়। আপনার ডিভাইস্টি প্রস্তুত কারী কোম্পানি ইচ্ছা করেই এতে রুট এক্সেস দেই নি এটি তারা করে মূলত আপনার ফোনের সুরক্ষার জন্য।

রুট ফোল্ডার/পার্টিশনে থাকা ফাইলগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর কোনো একটি দুর্ঘটনাবশতঃ মুছে গেলে আপনার পুরো ডিভাইস কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। এছাড়াও ক্ষতিকারক প্রোগ্রামও অনেক সময় রুট করা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। কিন্তু লক থাকা অবস্থায় ব্যবহারকারী নিজেই রুট অ্যাক্সেস পান না, তাই অন্য প্রোগ্রামগুলোর রুট অ্যাক্সেস পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।ডিভাইস লক করা থাকার আরেকটি কারণ হচ্ছে সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশন ও ফাইল। অনেকেই ইন্টারনাল মেমোরি খালি করার জন্য বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন এসডি কার্ডে ট্রান্সফার করে থাকেন। রুট করা থাকলে সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশনগুলোও ট্রান্সফার করে ফেলা যায়। কিন্তু অপারেটিং সিস্টেমের কিছু ফাইল রয়েছে যেগুলো ইন্টারনাল মেমোরির ঠিক যেখানে আছে সেখানেই থাকা আবশ্যক। ব্যবহারকারী যখন ডিভাইস রুট করেন, তখন স্বভাবতঃই অনেক কিছু জেনে তারপর রুট করেন। তখন বলে দেয়াই থাকে যে, কিছু কিছু সিস্টেম অ্যাপস এসডি কার্ডে ট্রান্সফার করলে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু যদি স্বাভাবিক অবস্থায়ই সেট রুট করা থাকে, তাহলে ব্যবহারকারী না জেনেই সেটের ক্ষতি করতে পারেন।

এখন জানা যাক রুটের সুবিধা এবং অসুবিধার ব্যপারে -

আপনি আপনার সেট রুট করার সাথে সাথেই একজন সুপার ইউজার হয়ে যাবেন। তখন আপনি যেসব সুবিধা পাবেনঃ

১) অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ডিভাইসের অব্যবহৃত ফাইল, টেমপোরারি ফাইল ইত্যাদি নিয়মিত মুছে ফোনের গতি ঠিক রাখা বা পার্ফমেন্স বাড়াতে পারবেন।

২) সিপিইউ স্পিড স্বাভাবিক অবস্থায় যতটা থাকে তারচেয়ে বেশি দ্রুত কাজ করানো। এর মাধ্যমে কোনো বিশেষ কাজে প্রসেসরের গতি বাড়ানোর প্রয়োজন পড়লে তা করা যায়।

৩) যখন ডিভাইস এমনিতেই পড়ে থাকে, তখন সিপিইউ যেন অযথা কাজ না করে সেজন্য এর কাজের ক্ষমতা কমিয়ে আনা। এতে করে ব্যাটারির ব্যাকাপ বাড়ানো সম্ভব ৷

৪) আপনার ডিভাইসের হোমস্ক্রিন, লক স্ক্রিন, মেনু ইত্যাদি বিভিন্ন ইউজার ইন্টারফেসের ডিজাইন একটা সময় পর আর ভালো নাও লাগতে পারে। তখন আপনি ডিভাইসে নতুনত্ব আনতে পারবেন নতুন সব কাস্টম ইউজার ইন্টারফেসের মাধ্যমে। এগুলোকে অন্যভাবে রমও বলা হয়।

৫) কাস্টম রম ইন্সটল করার সুবিধা। অনেক ডেভেলপার বিভিন্ন জনপ্রিয় ডিভাইসের জন্য কাস্টম রম তৈরি করে থাকেন। এসব রম ইন্সটল করে আপনি আপনার সেটকে সম্পূর্ণ নতুন একটি সেটের রূপ দিতে পারবেন। বাইরে থেকে অবশ্যই এর ডানা-পাখনা গজাবে না বা ক্যামেরা ৫ মেগাপিক্সেল থেকে ৮ মেগাপিক্সেল হবে না, কিন্তু ভেতরের ডিজাইন ও ক্ষেত্রবিশেষে পারফরম্যান্সেও আসবে আমূল পরিবর্তন।

এতক্ষন জানলাম রুটের উপকারিতা ৷ এখন রুট করার ফলে কি কি অসুবিধায় আপনি পড়তে পারেন ৷

১) ডিভাইস রুট করার মাধ্যমে আপনার ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যাবে। তাই রুট করার আগে সাবধান। অবশ্য অনেক সেট আবার আনরুট করা যায়। আর সেট আনরুট করা হলে তা সার্ভিস সেন্টারে থাকা টেকনিশিয়ানরা অনেক সময়ই ধরতে পারেন না যে সেটটি রুট করা হয়েছিল। তবে কাস্টম রম থাকলে ধরা খাওয়া এড়ানোর উপায় নেই।

২) ফোন ব্রিক হওয়ার সম্ভবনা থাকে। ব্রিক অর্থ ইট। আর ফোন ব্রিক মানে আপনার ডিভাইসকে ইটে রূপান্তরিত করা। অর্থাৎ, এর কাজ করার ক্ষমতা হারানো।

৩) রুট করা ও এর পরবর্তী বিভিন্ন কাজের সময় একটু এদিক-সেদিক হলেই ফোনে স্থায়ী বা অস্থায়ী সমস্যা হতে পারে। কোন প্রস্তুতকারী কোম্পানি গুলা এজন্যই আনরুট অবস্থায় দেয় যেন কোন ক্ষতি না হয়।
আর রুটে মাধ্যমে আপনি সেই নিশ্চয়তা বলি দিয়েছেন তাই এর দায়ভার কোম্পানি নিবে না।


ফারাবি রাহমান, আস্ক অ্যানসারছ এর সমন্বয়ক এবং সহযোগী পরিচালক ৷ পেশায় তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক ৷ মানুষের উপকার করতে ভালোবাসেন ৷ তাই স্বাস্থ্যগত সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়ে মানুষের উপকার করছেন ৷ আস্ক অ্যানসারছ এর প্রশাসক প্যানেলে থেকে সাথে আছেন সবসময় ৷

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 টি উত্তর
04 জুন "মোবাইল" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin সিনিয়র নিয়মিত সদস্য (780 পয়েন্ট)
2 টি উত্তর
11 নভেম্বর "পাটীগণিত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Raifa নতুন সদস্য (123 পয়েন্ট)
1 টি উত্তর
11 সেপ্টেম্বর "কুরআন ও হাদিস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
1 টি উত্তর
19 সেপ্টেম্বর "তথ্য ও প্রযুক্তি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin সিনিয়র নিয়মিত সদস্য (780 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর
04 জুলাই "প্রাথমিক" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Minka সিনিয়র সদস্য (1,163 পয়েন্ট)

2,074 টি প্রশ্ন

1,847 টি উত্তর

44 টি মন্তব্য

89 জন সদস্য

আস্ক অ্যানসারস বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইন কমিউনিটি। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷
  1. Kuddus

    185 পয়েন্ট

  2. Mrinmoy

    125 পয়েন্ট

  3. Raifa

    123 পয়েন্ট

  4. Minka

    101 পয়েন্ট

6 জন অনলাইনে আছেন
0 জন সদস্য, 6 জন অতিথি
আজকে ভিজিট : 1298
গতকালকে ভিজিট : 3428
সর্বমোট ভিজিট : 349764
এই সাইটে প্রশ্ন ও উত্তর করার জন্য দায়ভার সম্পূর্ন সংশ্লিষ্ট প্রশ্নকর্তা ও উত্তর দানকারীর ৷
...